Farah Ghuznavi (Bangladesh/ UK) is a writer, translator and newspaper columnist, and has a background in development work in Asia and Africa.Farah’s writing has been widely anthologized, featuring in publications and websites based in the UK, US, France, Austria, Canada, Germany, Singapore, Nigeria, India and Nepal, as well as in her native Bangladesh. Her story Judgement Day received an award in the Commonwealth Short Story Competition 2010. Farah was Writer in Residence with Commonwealth Writers in 2013, and contributed an episode to BBC Radio 3’s programme The Essay. She edited the Lifelines anthology and subsequently published her first short story collection Fragments of Riversong.

 

English

 

 

 

UNEXPECTED ANGEL

 

Farah Ghuznavi

 

She barrelled her way through the crowd that had wrapped itself tightly around my shrinking figure, a miniature dynamo of flying blonde curls and righteous indignation.

 

“Leave her alone! What are you staring at?!” she barked, her sense of authority belied by her diminutive stature.

 

The other children withered before the onslaught of that fierce blue gaze, melting away with mysterious rapidity.

 

The two of us were left facing each other in the sudden silence.

 

I struggled to comprehend my unexpected salvation, as two dimples flashed endearingly to life on Belinda’s smiling face.

 

The ominous metallic thunderclouds overhead mirrored the unenthusiastic welcome I had received at my new school. Refugees from the genocide taking place in East Pakistan, in mid-1971 my mother had taken my brother and me to London for safety, my father remaining trapped at home by the weight of responsibilities he was too conscientious to shrug off.

 

I was deeply unsettled by our sudden departure. And the murky tensions of a newly-fragmented family life had left me disoriented, ill-prepared to navigate an unfamiliar school environment. That too, armed with only a handful of odd words and phrases to make up my splintered English vocabulary. "Hedgehog", for example, wasn't a word likely to be of much use – even if it did describe my prickly sense of vulnerability quite well at the time.

 

I buckled under the weight of the curious stares from my classmates, my prayers for rain during our mid-morning break going unanswered. Much too soon, it was time to go out and play. But with whom, I wondered, as my panicked breathing tattooed an unsteady rhythm inside my chest.

 

A sympathetic look accompanied the pressure of the teacher’s palm against my rigid back, but she made it clear I could not linger indoors during playtime. And within a few minutes of my eviction from classroom to playground, I was surrounded by children whose badgering questions I could neither understand nor answer.

 

Until Belinda appeared, I’d been drowning, sinking bit by painful bit.

 

Now, she put out her small hand, taking mine in her confident grasp. The concept of rejection never crossed her five-year-old mind. I looked down at those pale fingers contrasting so boldly against my own coffee-shaded skin; and for the first time in forever, I felt safe.

 

And that was exactly how she kept me for the next nine months, before it was time to return to the new nation that was emerging from the bloodbath.

 

We were inseparable at school, everyone saw it. And if they didn’t understand what had drawn the supremely confident English girl to the shy, soon-to-be Bangladeshi, it didn’t matter. That’s just how it was.

 

Kindergarteners are pack animals; wolves, when they smell blood. Luckily for me, everyone liked Belinda. So by extension, they tolerated me.

 

Periodically the teachers would separate us in the interests of "class discipline”. Every now and then, another girl made an abortive bid for the position of Belinda’s best friend. And inevitably, we occasionally had a falling-out of our own.

 

But when things got complicated, Belinda and I had a well-tested formula to extricate ourselves from the situation. One of us would look at the other and say “What were we fighting about again? I can’t remember…”

 

It provided an invaluable face-saving option for two little girls who both had more than their fair share of pride.

 

And it worked every time.

 

 

Bangla

 

একজন অপ্রত্যাশিত দেবদূত

 

ফারাহ গজনবি

 

আমার কুঁকড়ে থাকা শরীরের চার-পাশে জমে থাকা ভীড় ঠেলে সে এগিয়ে এল। উড়তে থাকা একমাথা কোকড়া সোনালী চুল আর

 

কি দেখছ তোমরা?! -কে একা থাকতে দাও!” তার কন্ঠে এমন এক কতৃত্ব ছিল, যা তার ছোট্ট শরীরে একদমই মানানসই না।

 

তার নীল চোখের ভয়ানক চাহনির সামনে ভীড় বেশিক্ষণ টিকতে পারল না। এক অদ্ভুত দ্রুততার সাথে অন্য বাচ্চাদের ভীড় টা সরে গেল।

 

এই সাময়িক নিরবতা যেন আমাদের দুজন কে সারা পৃথিবী থেকে আলাদা করে ফেলল।

 

আমার হঠাৎ পাওয়া মুক্তিকে বোঝার চেষ্টা করতে করতে দেখলাম ব্লিন্ডার স্নেহ মাখা হাসি তার দু-গালের টোল কে জীবন্ত করে তুলল।

 

মাথার উপর আকাশে যে ধাতব কালো মেঘ গুলো জমা হয়ে আছে, ঠিক তার মতই ছিল নতুন স্কুলে আমার অনুৎসাহী অভ্যর্থান। ১৯৭১ এর মাঝামাঝি সময়ে পূর্ব-পাকিস্থানে চলতে থাকা গণহত্যা থেকে বাচতে আমার মা আমাকে এবং আমার ভাই কে নিয়ে লন্ডনে চলে আসেন। আমার বাবা দেশেই থেকে গেলেন। তিনি বিবেকের তাড়নায় তার কাধে চেপে থাকা দায়ীত্ব এড়াতে পারেননি।

 

অপরিকল্পিত ভাবে চলে আসায় আমার মন কিছুটা বিক্ষিপ্ত হয়ে ছিল। তার সাথে যোগ হয়েছিল শেকড় থেকে উঠিয়ে নেওয়া পরিবারের চিন্তা। নতুন স্কুলে যাবার ভয়, তাও আবার হাতেগোণা কিছু ইংরেজি শব্দকে সম্বল করে। যেমন ধরুন ‘হেজহগ’ (সজারু) খুব বেশি কাজে লাগার মত শব্দ না; যদিও সেই মুহুর্তে আমার অসহায়ত্ব টা ঠিক সজারুর মতই খোচাচ্ছিল আমাকে।

 

আমি আমার সহপাঠীদের উৎসুক চাহনির সামনে যেন কুঁকড়ে যাচ্ছিলাম। প্রার্থনা করছিলাম যেন বৃষ্টি এসে সকালে খেলার সময় টা নষ্ট করে দেয়, কিন্তু সব প্রার্থনা বিফল করে সকালে খেলতে যাবার সময় হয়ে গেল। দুরু দুরু বুকে ভাবতে থাকলাম, কার সাথে খেলব!

 

মুখে সহানুভূতি ফুটিয়ে আলতো করে আমার পিঠে হাত রেখে শিক্ষিকা বুঝিয়ে দিলেন যে খেলার সময় ভেতরে থাকা চলবে না। বের হতেই আমার সহপাঠীদের প্রশ্নবাণ আমাকে যেন কোণঠাসা করে ফেলল। যেসব প্রশ্নের একটিও না আমি বুঝতে পারি, না তার উত্তর আমার জানা।

 

আমি যেন ডুবে যাচ্ছিলাম, খড়-কুটো আকড়ে ধরতে আপ্রাণ চেষ্টা করছিলাম, যতক্ষণ না ব্লেন্ডা আমার জীবনে এল।

 

ছোট্ট হাত টা বাড়িয়ে বেশ দৃঢ় ভাবেই সে আমার হাত টা ধরল। পাঁচ বছরের এই ছোট জীবনে সে কখনো ফিরিয়ে দেওয়া শেখেনি। ব্লেন্ডার ম্লান আঙুল গুলো আমার প্রায় কফি রঙের আঙুলের বিপরীতে বেশ ফুটে উঠিছিল, এবং প্রথমবারের মত নিজেকে নির্ভার লাগছিল।

 

রক্তগঙ্গা পার করে স্বাধীন হওয়া আমার মাতৃভূমিতে ফেরার আগে ঠিক এভাবেই পরবর্তি নয় মাস সে আমাকে আগলে রেখেছিল।

 

স্কুলে আমাদের দুজনকে আলাদা রাখা যেত না। সবাই এটা দেখেছে, আর যদি তারা না বোঝে যে এই আত্মপ্রত্যয়ী ইংরেজ মেয়ে আর এই চাপা স্বভাবের প্রায় বাংলাদেশীকে কেন আলাদা করা যায় না, তাহলে আসলে কিছু যায় আসে না। কারণ আমাদের সম্পর্কটাই ছিল এরকম।

 

কিন্ডারগার্টেন এর বাচ্চারা নেকড়ের মত, দল বেধে চলে, যখন নতুন কেউ স্কুলে আসে, তারা যেন হিংস্র হয়ে উঠে। সৌভাগ্য যে বাকি সবাই ব্লিন্ডা কে পছন্দ করে। আর অনেকটা একারণেই, তারা আমাকেও মেনে নিয়েছিল।

 

টিচার হয়ত ক্লাসে শৃঙ্খলা রাখতে আমাদের আলাদা করে বসাতেন। কখনো হয়ত অন্য কোন মেয়ে ব্লিন্ডার প্রিয় বন্ধু হবার চেষ্টা করত। আর খুব স্বাভাবিক ভাবে আমাদেরও মাঝে মাঝে ঝগড়া হত।

 

আমার আর ব্লেন্ডার ঠিক যেন পরীক্ষিত একটি পদ্ধতি ছিল আমাদের বড় ঝগড়া মেটানোর। যেটা কখনোই বিফল হয় নি। একজন আরেকজনের দিকে তাকিয়ে বলতাম, ‘আমরা যেন কি নিয়ে ঝগড়া করছিলাম? আমি মনে করতে পারছিনা এখন...’ ঠিক যেন আমাদের দুজনেরই মন রক্ষার উপায়।

 

Translated by Riedwan Habibur Rahman

 

 Riedwan Habibur Rahman works with the Faith and Development Project under the Centre for Peace and Justice (CPJ), BRAC University, Dhaka. He studied Anthropology, and his research interests cover Religion, Comparative Religion, Theology and Culture.